শিরোনাম
  • ফের যে আসন থেকে নির্বাচনের সম্ভাবনা রয়েছে খালেদা জিয়ার আন্তর্জাতিক ফুটবলে যে সমস্যার মুখোমুখি হতে যাচ্ছে ইসরায়েল কে এই নতুন মেসি-ইয়ামাল? ঢাকেশ্বরী মন্দির পরিদর্শনে গিয়ে যা বললেন ড. মুহাম্মদ ইউনুস সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন কাঠামোতে যে নতুন নির্দেশনা দিলেন প্রধান উপদেষ্টা আলুর দাম নিয়ে যে দুঃসংবাদ শোনালেন বাণিজ্য উপদেষ্টা হাইকোর্টের রায়ের স্থগিতাদেশ নিয়ে যা জানালেন আইনজীবী শিশির মনির নির্বাচন নিয়ে নতুন যে বিবৃতি দিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার সরকার নির্বাচন নিয়ে চাপ দিলে পদত্যাগ করবো: সিইসি শেখ হাসিনার বক্তব্য প্রচার করলে তাৎক্ষণিক আইনি ব্যবস্থা: প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং
  • এইচএসসি ও সমমানের ফল প্রকাশ

    ১১ বোর্ডে পাসের হার ৯৫.২৬ শতাংশ

    নিজস্ব প্রতিবেদক

    ১৩ ফেব্রুয়ারী, ২০২২ ১০:৩৭ অপরাহ্ন

    ১১ বোর্ডে পাসের হার ৯৫.২৬ শতাংশ
    এইচএসসি ও সমমানের ফল প্রকাশ

    কোভিড-১৯ পরিস্থিতিতে  বিলম্বিত শিক্ষাবর্ষ শেষে সংক্ষিপ্ত সিলেবাসে অনুষ্ঠিত ২০২১ সালের উচ্চমাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশিত হয়েছে রোববার। এতে  দেশের ১১ টি শিক্ষা বোর্ডে পাসের হার ৯৫ দশমিক ২৬ শতাংশ। পরীক্ষায় অংশ নেওয়া ১৩ লাখ ৬ হাজার ৭১৮ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে ১ লাখ ৮৯ হাজার ১৬৯ জন জিপিএ ৫ পেয়েছে, যা উত্তীর্ণের মোট সংখ্যার ১৩. ৭৯ শতাংশ। এবার জিপিএ-৫ প্রাপ্তিতে আগের সব রেকর্ড ভঙ্গ করেছে। গত বারের চেয়ে এবার জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা বেড়েছে ২৭ হাজার ৩৬২ জন। তাছাড়া গতবছর পরীক্ষা ছাড়াই সবাইকে পাসের রেকর্ডের পর এবারের পাসের হারও দ্বিতীয় সর্বোচ্চ।

    প্রকাশিত ফলাফল অনুযাযী এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় এবার পাসের হার ও জিপিএ-৫ প্রাপ্তি দিক থেকে ছেলেদের চেয়ে মেয়েরা এগিয়ে আছে। ১১ টি বোর্ডের মধ্যে পাসের হারে এগিয়ে আছে যশোর বোর্ড ও পিছিয়ে চট্টগ্রাম বোর্ড। আর জিপিএ-৫ প্রাপ্তি দিক থেকে এগিয়ে ঢাকা বোর্ড ও পিছিয়ে আছে সিলেট বোর্ড। এবার এক হাজার ৯৩৪টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সব শিক্ষার্থী পাস করেছে। আর ৫ টি প্রতিষ্ঠানের কেউ পাস করেনি।

    রোববার বেলা ১১টার পর ১১ শিক্ষাবোর্ডের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে ফলাফল হস্তান্তরের পর তিনি গণভবন থেকে ভার্চ্যুয়ালি যুক্ত হয়ে এই ফলাফল আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেন। পরে সেগুনবাগিচায় আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলন করে ফলাফলের বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি। শিক্ষাবোর্ডের ওয়েবসাইটে এবং এসএমএসের মাধ্যমে ফলাফল জানা যাচ্ছে। এছাড়া পরীক্ষা কেন্দ্র ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকেও সংগ্রহ করা যাচ্ছে ফল।

    ২০২০ সালে দেশে মহামারীর প্রকোপে সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে গেলে এইচএসসি পরীক্ষা নেওয়া যায়নি। জেএসসি ও এসএসসির ফলের ভিত্তিতে ২০২১ সালের জানুয়ারিতে তাদের মূল্যায়ন ফল প্রকাশ করা হয়। তাতে ১৩ লাখ ৬৭ হাজার ৩৭৭ জন শিক্ষার্থীর সবাই পাস করে, জিপিএ-৫ পান এক লাখ ৬১ হাজার ৮০৭ জন। তবে ২০২১ সালে পরীক্ষা ছাড়া মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিকের শিক্ষার্থীদের পরের ধাপে পাঠাতে চায়নি সরকার। ফলে সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণের অপেক্ষায় আট মাস পিছিয়ে যায় এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা।

    এ বিষয়ে ফলাফল প্রকাশ অনুষ্ঠানে শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি বলেন, প্রতিবছর এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহে উচ্চ মাধ্যমিক, আলিম, উচ্চমাধ্যমিক (ভোকেশনাল), উচ্চমাধ্যমিক (ব্যবসায় ব্যবস্থাপনা) ও ডিপ্লোমা ইন কমার্স পরীক্ষা শুরু হয় এবং মূল্যায়ন শেষে জুলাই মাসে ফল প্রকাশিত হয়ে থাকে। এ বছর কোভিড-১৯ জনিত অতিমারীর কারণে সময়মত পরীক্ষাগ্রহণ সম্ভব হয়নি। পরবর্তীতে পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হওয়ায় গ্রæপভিত্তিক তিন তিনটি নৈর্বাচনিক বিষয়ে ছয়টি পত্রে পুনর্বিন্যাসকৃত সিলেবাস, সংক্ষিপ্ত সময় (দেড় ঘন্টা) এবং নম্বর বন্টন পরিবর্তন এনে এ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। গত ২ ডিসেম্বর পরীক্ষা শুরু হয়েছে ৩০ ডিসেম্বর শেষ হয়। যার ফলাফল রোববার প্রকাশিত হলো।

    সূত্রমতে, বাংলা ও ইংরেজির মতো আবশ্যিক বিষয়গুলোর পরীক্ষা এবার নেওয়া হয়নি। তার বদলে জেএসসি ও এসএসসি পরীক্ষার ফলের ভিত্তিতে সেসব বিষয়ের মূল্যায়ন (সাবজেক্ট ম্যাপিং) করে এবারের পূর্ণাঙ্গ ফলাফল তৈরি করা হয়েছে।

    পদ্ধতিগত পার্থক্যের কারণে ২০২০ সালের সঙ্গে ২০২১ সালের ফলের তুলনা করে পাসের হারে হ্রাস-বৃদ্ধির হিসাব করা যৌক্তিক হবে না। তবে আগের বারের চেয়ে এবার জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা বেড়েছে ২৭ হাজার ৩৬২ জন।

    মহামারী শুরুর আগে ২০১৯ সালে উচ্চ মাধ্যমিক ও সমমানের পরীক্ষায় সার্বিকভাবে পাস করে ৭৩ দশমিক ৯৩ শতাংশ শিক্ষার্থী। তাদের মধ্যে মোট ৪৭ হাজার ২৮৬ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছিল। আর ২০১৮ সালে পাসের হার ছিল ৬৬ দশমিক ৬৪ শতাংশ, জিপিএ-৫ পেয়েছিল ২৯ হাজার ২৬২ জন।

    সাবজেক্ট ম্যাপিংয়ের কারণেই মূলত গতবারের চেয়ে এবার জিপিএ-৫ এবং অটোপাসের আগের বছরের হিসাবে পাসের হার বেড়েছে বলে শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি জানিয়েছেন।

    ৯ টি সাধারণ এবং মাদ্রাসা ও কারিগরি বোর্ডের অধীনে ৯ হাজার ১১১টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ১৪ লাখ ৩২৪৪ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে এবারের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় অংশ নেয় ১৩ লাখ ৭১ হাজার ৬৮১ জন শিক্ষার্থী। তাদের মধ্যে ১৩ লাখ ৬ হাজার ৭১৮ জন পাস করেছে। সার্বিক পাসের হার ৯৫.২৬%। ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে পাসের হার ৯৫.৫৭%, জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ লাখ ৭৮ হাজার ৫২২ জন। মাদ্রাসা বোর্ডে পাসের হার ৯৫.৪৯%, জিপিএ-৫ পেয়েছে ৪ হাজার ৮৭২ জন। কারিগরি শিক্ষা বোর্ডে পাসের হার ৯২.৮৫%, জিপিএ-৫ পেয়েছে ৫ হাজার ৭৭৫ জন।


    এবার বিদেশের ৮টি প্রতিষ্ঠানের ২৬৭ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে তিনজন ছাড়া সবাই পাস করেছে। জিপিএ-৫ পেয়েছে ৯২জন।
    এদিকে এবার ৭টি বোর্ডের ১৬০ জন পরীক্ষার্থী বহিষ্কার হয়েছিল। এরমধ্যে সবচেয়ে বেশি কারিগরি শিক্ষাবোর্ডে ৫৯জন। এর পরে মাদ্রাসা বোর্ডে ৫৮জন ও বরিশাল বোর্ডে ১৫জন। সবচেয়ে কম বহিষ্কার হয় যশোর বোর্ডে একজন। আর কোন বহিষ্কারের ঘটনা ঘটেনি রাজশাহী, সিলেট ও ময়মনসিংহ বোর্ডে।

    ফলাফল প্রকাশের আনুষ্ঠানিকতা সেরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শিক্ষার্থীদের সুস্বাস্থ্য ও উজ্জল ভবিষ্যত কামনা করেন। তিনি বলেন, কৃতকার্য হয়েছে, তাদেরকে আমি আন্তরিক অভিনন্দন জানাই এবং যারা হতে পারেনি, আমি মনে করি যে, একটা অস্বাভাবিক পরিবেশের মধ্যে পরীক্ষা হয়েছে। কাজেই এখানে শিক্ষার্থীদের কোনো দোষ নেই।

    অভিভাবকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের জন্য আপনারা সুযোগ করে দেবেন। এবং তাদেরকে আদর দিয়ে,ভালোবাসা দিয়েইৃ তাদের অকৃতকার্য হওয়া তাদের কোনো অপরাধ না। বিশ্বব্যাপী এই সমস্যাটা হচ্ছে। এটা শুধু বাংলাদেশ না। সারাবিশ্বেই এই করোনা মহামারীর কারণে একটা অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে।

    শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি অনুষ্ঠানে বলেন, কারিগরি শিক্ষার বিষয়ে আমাদের মানসিকতা পরিবর্তন করতে হবে। উন্নত দেশগুলোর দিকে তাকালে আমরা দেখব, তারা কারিগরি শিক্ষা ও গবেষণায় জোর দিয়েছে।

    শিক্ষার সকল পর্যায়ে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতে সরকার কাজ করছে বলে জানান তিনি। শিক্ষার্থীদের ‘মনের দরজা-জানালা’ খোলা রাখার তাগিদ দিয়ে তিনি বলেন, গতানুগতিক শিক্ষার বাইরে বেরিয়ে নিজেকে কর্মজগতের উপযুক্ত করে গড়ে তুলতে হবে।

    শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল বলেন, উচ্চ শিক্ষা পর্যায়ে অনার্স বা মাস্টার্স শেষ করে সনদ পাওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা না করে অনার্স পর্যায়ে শর্ট কোর্সের ব্যবস্থা করে শিক্ষার্থীদের কর্মক্ষেত্রে প্রবেশের সুযোগ তৈরি করে দিতে হবে।

    শিক্ষার্থীদের যোগ্যতানির্ভর কোর্স ও কম্পিউটারে দক্ষতা বাড়ানোর ওপর জোর দেন তিনি। উপমন্ত্রী বলেন, মহামারীর সময় আমরা দেখেছি, হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ও তাদের কোর্স উন্মুক্ত করে দিয়েছে। এই সুযোগগুলো শিক্ষার্থীদের নিতে হবে। নিজেদের দক্ষতা, যোগ্যতার ভিত্তিতে তৈরি করতে হবে।




    সাতদিনের সেরা খবর

    শিক্ষা - এর আরো খবর

    এইচএসসির ফল প্রকাশ হতে পারে ১৬ অক্টোবর

    এইচএসসির ফল প্রকাশ হতে পারে ১৬ অক্টোবর

    ১৩ ফেব্রুয়ারী, ২০২২ ১০:৩৭ অপরাহ্ন

    ডাকসু নির্বাচন নিয়ে যা বললেন উপাচার্য

    ডাকসু নির্বাচন নিয়ে যা বললেন উপাচার্য

    ১৩ ফেব্রুয়ারী, ২০২২ ১০:৩৭ অপরাহ্ন