শিরোনাম
  • ফের যে আসন থেকে নির্বাচনের সম্ভাবনা রয়েছে খালেদা জিয়ার আন্তর্জাতিক ফুটবলে যে সমস্যার মুখোমুখি হতে যাচ্ছে ইসরায়েল কে এই নতুন মেসি-ইয়ামাল? ঢাকেশ্বরী মন্দির পরিদর্শনে গিয়ে যা বললেন ড. মুহাম্মদ ইউনুস সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন কাঠামোতে যে নতুন নির্দেশনা দিলেন প্রধান উপদেষ্টা আলুর দাম নিয়ে যে দুঃসংবাদ শোনালেন বাণিজ্য উপদেষ্টা হাইকোর্টের রায়ের স্থগিতাদেশ নিয়ে যা জানালেন আইনজীবী শিশির মনির নির্বাচন নিয়ে নতুন যে বিবৃতি দিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার সরকার নির্বাচন নিয়ে চাপ দিলে পদত্যাগ করবো: সিইসি শেখ হাসিনার বক্তব্য প্রচার করলে তাৎক্ষণিক আইনি ব্যবস্থা: প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং
  • ঋণপত্রের দায় পরিশোধ করতে পারছে না

    ডলার সংকটে যশোরের ব্যাংকগুলো

    মোঃ জামাল হোসেন, বেনাপোল, যশোর

    ১৪ নভেম্বর, ২০২২ ১২:৩৮ অপরাহ্ন

    ডলার সংকটে যশোরের ব্যাংকগুলো

    যশোরের ব্যাংকগুলো আমদানি ঋণপত্র বা এলসি খোলা বন্ধ করে দিয়েছে। ফলে বিপাকে পড়েছে জেলার আমদানিকারকরা। ব্যাংকের কর্মকর্তারা বলছেন, ডলার সংকটের কারণে আমদানি করা পণ্যের দায় পরিশোধ করতে পারছেন না তারা। এজন্য নতুন এলসি খোলা বন্ধ করা হয়েছে। তবে আমদানিকারক ব্যবসায়ীরা বলছেন, এলসি খোলা বন্ধ থাকলে চরম সংকটের সম্মুখীন হবেন ব্যবসায়ীরা। এক্ষেত্রে পণ্যের দামও বাড়বে।

    সংকটের কারণে যথাসময়ে ঋণপত্রের (এলসি) দায় পরিশোধ করতে পারছে না রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকসহ বেসরকারি ব্যাংক গুলো। এলসি দায় পরিশোধে বিলম্ব প্রায় ব্যাংকে নিয়মিত ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। ইসলামী ধারার ইসলামী ব্যাংকটির ডলার ধারণক্ষমতা ৫৩ মিলিয়ন হলেও এ মুহূর্তে উদ্বৃত্ত কোনো ডলার নেই। উল্টো ৮৮ মিলিয়ন ডলার ঘাটতিতে। সারা দেশের মতো যশোর শাখায়ও কোন ডলার নেই তাদের। অগ্রণী, ইসলামী কিংবা এক্সিম ব্যাংকের মত পরিস্থিতি এখন বেশির ভাগ ব্যাংকের।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যে দেখা যায়, দেশের অন্তত ২০টি ব্যাংকের কাছে এলসি দায় মেটানোর মতো কোনো ডলার নেই। আমদানি দায় পরিশোধ করতে গিয়েই ঘাটতিতে পড়েছে এসব ব্যাংক। রেমিট্যান্স ও রফতানি আয় থেকে সংগৃহীত ডলার দিয়েও নিজেদের আমদানি দায় ও গ্রাহকদের বিদেশি ঋণ পরিশোধ করতে পারছে না। এ কারণে আমদানির নতুন এলসি খোলা প্রায় বন্ধ করে দিয়েছে ব্যাংকগুলো। অনেক ব্যাংক খাদ্যসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের এলসি খোলাও বন্ধ রেখেছে। যে কয়েকটি ব্যাংকের কাছে এখনো ডলার আছে, সেগুলোও কমে আসছে। আর এ সংকটের কারণে প্রায় অকার্যকর হয়ে পড়েছে আন্তঃব্যাংক বৈদেশিক মুদ্রাবাজার।

    এদিকে ডলার সংকটের কারণে যশোরের সরকারি বেসরকারি অনেক ব্যাংকই নির্ধারিত তারিখে এলসি দায় পরিশোধ করতে পারছে না। কোন কোন দায় পরিশোধে এক মাসও বিলম্ব হচ্ছে। এ অবস্থায় এলসির নিশ্চয়তা দেয়া বিদেশি ব্যাংকগুলোর কাছে বাংলাদেশের ব্যাংক খাতের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন হচ্ছে। বিদেশি অনেক ব্যাংকই এখন বাংলাদেশের জন্য নিজেদের ক্রেডিট লাইন কমিয়ে দিতে শুরু করেছে।

    ব্যাংকের শাখা ব্যবস্থাপকরা বলছেন, বিদ্যমান ডলার সংকট পরিস্থিতি ভয়াবহ। কিন্তু নীতি নির্ধারকরা পরিস্থিতির ভয়াবহতা বুঝতে পারছেন না। প্রতিদিনই কোন না কোন ব্যাংক এলসির দায় পরিশোধে ব্যর্থ হচ্ছে। ব্যাংকগুলোর ডলার ঘাটতির পরিমাণও বাড়ছে। রফতানি আয় ও রেমিট্যান্স প্রবাহ যে হারে কমছে, তাতে ডলার সংকট আরো তীব্র হবে। ব্যাংকগুলো এলসি দায় পরিশোধে ব্যর্থ হওয়ায় বিদেশি ব্যাংকগুলো বাংলাদেশের এলসি নেয়াই বন্ধ করে দিতে পারে।

    দেশের মোট রেমিট্যান্স প্রবাহের প্রায় ৩০ শতাংশই আসে ইসলামী ব্যাংকের মাধ্যমে। আবার রফতানি আয়ের দিক থেকেও ব্যাংকটির অবস্থান সবার শীর্ষে। এরপরও আমদানি দায় পরিশোধ নিয়ে বিপদে আছে দেশের সবচেয়ে বড় ব্যাংকটি। কোনো কোনো এলসি দায় পরিশোধের ক্ষেত্রে ৩০ দিন পর্যন্ত বিলম্ব হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য বলছে, বর্তমানে সবচেয়ে বেশি ডলার ঘাটতিতে রয়েছে অগ্রণী ব্যাংক। রাষ্ট্রায়ত্ত এ ব্যাংকের ঘাটতির পরিমাণ ২৫৬ মিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে। এছাড়া এক্সিম ব্যাংক ৮৮ মিলিয়ন, ঢাকা ব্যাংক ৬৮, শাহজালাল ইসলামী ব্যাংক ৬৪, ইউসিবিএল ৪৯, দ্য সিটি ব্যাংক ৪৭, পূবালী ব্যাংক ৪৫, প্রাইম ব্যাংক ৪২ ও সাউথইস্ট ব্যাংক ৪১ মিলিয়ন ডলার ঘাটতিতে রয়েছে। ইস্টার্ন ব্যাংকের ঘাটতির পরিমাণ ৩৫ মিলিয়ন ডলার। মার্কেন্টাইল ব্যাংক ৩৪, ওয়ান ব্যাংক ৩২, স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংক ২৭, ন্যাশনাল ব্যাংক ২৪, ব্যাংক এশিয়া ১৪ ও স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ১১ মিলিয়ন ডলার ঘাটতিতে রয়েছে। ৮ মিলিয়ন ডলার করে ঘাটতিতে রয়েছে ট্রাস্ট, ব্র্যাক ও এনসিসি ব্যাংক। বিদেশি খাতের কমার্শিয়াল ব্যাংক অব সিলনেও ৪ মিলিয়ন ডলার ঘাটতি রয়েছে।

    ওয়ান ব্যাংক লিমিটেডের খুলনা জোনের প্রধান আবু সাইদ আবদুল মান্নাফ জানান, বৈশ্বিক অস্থিরতার কারণে দেশে ডলার সংকট চলছে। আমদানি করা পণ্যের দায় পরিশোধ করতে না পারায় নতুন করে এলসি খোলা বন্ধ করা হয়েছে। পরিস্থিতি ভালো হলে আবারও খোলা হবে।
    ইস্টার্ন ব্যাংক যশোরের শাখা ব্যবস্থাপক আবদুল হক জানান, বেশির ভাগ ব্যাংক ডলার সংকটের কারণে এলসি নেওয়া বন্ধ করেছে। এতে আমদানির সঙ্গে জড়িত ব্যবসায়ীরা পণ্য আনতে না পারলে ব্যবসায়িকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। তখন ব্যাংকও সংকটের মুখোমুখি হতে পারে। কেননা ব্যবসা করতে না পারলে ব্যবসায়ীরা ব্যাংকের ঋণের টাকা পরিশোধ করবে না।

    সাউথ বাংলা এগ্রিকালচারাল অ্যান্ড কমার্স ব্যাংক যশোর শাখার ব্যবস্থাপক আনিছুর রহমান বলেন, ডলার না থাকার কারণে আমরা আমদানির দায় পরিশোধ করতে পারছি না। এজন্য নতুন করে আর এলসি নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।
    মিউচ্যুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক যশোর শাখার ব্যবস্থাপক শাকিল আলম, ঢাকা ব্যাংক যশোর শাখার ব্যবস্থাপক হুমায়ন কবীর তাদের শাখায় ডলার সংকটের কারণে এলসি বন্ধ রাখা হয়েছে বলে জানিয়ে বলেন, আমাদের মতো ২০টিরও বেশি ব্যাংকের শাখায় কোন এলসি নেয়া হচ্ছে না। সামনে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে।

    যশোরের বৃহৎ মোটরসাইকেল পার্টস আমদানিকারক রিপন অটোর ব্যবস্থাপনা পরিচালক এজাজ উদ্দিন টিপু বলেন, মোটরসাইকেল পার্টস আমদানি করে সারা দেশে সরবরাহ করি। ডলার সংকটের কারণে ব্যাংক যদি এলসি দীর্ঘমেয়াদে বন্ধ রাখে, তাহলে এ খাতের ব্যবসায়ীরা ভেঙে পড়বে।
    যশোরের হোন্ডা মোটরসাইকেলের ডিলার মো. আবু শাহরিয়াদ মিতুল বলেন, ডলার সংকটে এলসি বন্ধ থাকায় সংকটে পড়বে আমদানির সঙ্গে জড়িত ব্যবসায়ীরা। এতে করে সব পণ্যের দাম বৃদ্ধি পাবে। এই অবস্থা দীর্ঘ হলে কর্মসংস্থানেও প্রভাব পড়বে। যার নেতিবাচক প্রভাব পড়বে দেশের অর্থনীতিতে।

    যশোর চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সাবেক সভাপতি ও আমদানিকারক মিজানুর রহমান খান বলেন, শিল্পের কাঁচামাল, খাদ্যপণ্য ও নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্য আমদানি করতে না পারলে বাজার ব্যবস্থা অস্বাভাবিক হয়ে পড়বে। যার প্রভাব পড়বে ক্রেতাদের ওপর। আবার অনেকে কর্মসংস্থানও হারাবে।

    সামগ্রিক বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র জিএম আবুল কালাম আজাদ বলেন, ডলারের বাজার স্থিতিশীল করতে বাংলাদেশ ব্যাংক এরই মধ্যে বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে। এরই মধ্যে আমাদের এলসি খোলার পরিমাণ প্রায় ৪০ শতাংশ কমেছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের একটি চৌকস টিম ব্যাংকের খোলা এলসিগুলো পর্যবেক্ষণ করছে। জ্বালানি তেলসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য আমদানিতে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে ডলার সহায়তা দেয়া হচ্ছে। আমরা আশা করছি, সহসা দেশের বৈদেশিক মুদ্রাবাজার স্থিতিশীল হয়ে যাবে।

    এর আগে চলতি বছরের ফেব্রæয়ারিতে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর বিশ্ববাজারে পণ্যের দামে নেতিবাচক প্রভাব দেখা যায়। টালমাটাল হয়ে পড়ে বিশ্ব অর্থনীতি। আর বিশ্ববাজারে জ্বালানি, খাদ্যপণ্য, যন্ত্রপাতি ও কাঁচামালের দাম বেড়ে যাওয়ায় আমদানি খরচ বেড়ে যায় বাংলাদেশেরও। তবে সেই তুলনায় রফতানি ও প্রবাসী আয় না বেড়ে আরও কমে যায়। ফলে দেশে তৈরি হয় ডলার সংকট।

     




    সাতদিনের সেরা খবর

    অর্থ-বাণিজ্য - এর আরো খবর

    দাম কমলো এলপিজি ও অটোগ্যাসের

    দাম কমলো এলপিজি ও অটোগ্যাসের

    ১৪ নভেম্বর, ২০২২ ১২:৩৮ অপরাহ্ন

    এপেক্স ফুটওয়্যারের লভ্যাংশ ঘোষণা

    এপেক্স ফুটওয়্যারের লভ্যাংশ ঘোষণা

    ১৪ নভেম্বর, ২০২২ ১২:৩৮ অপরাহ্ন

    চালু হলো রূপালী ব্যাংকের ‘রূপালীক্যাশ’

    চালু হলো রূপালী ব্যাংকের ‘রূপালীক্যাশ’

    ১৪ নভেম্বর, ২০২২ ১২:৩৮ অপরাহ্ন