চলতি অর্থবছরের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ৮ মাসে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) রাজস্ব আহরণে ২২ হাজার ৯৭৮ কোটি টাকা ঘাটতি হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ঘাটতি রয়েছে আমদানি ও রফতানি পর্যায়ে (কাস্টমস)। এ ঘাটতির পরিমাণ ১৩ হাজার ৮১৪ কোটি টাকা। এর পরই রয়েছে স্থানীয় পর্যায়ে মূসকে (ভ্যাট)। এ খাতে ঘাটতি ৫ হাজার ৭৩৮ কোটি টাকা। সবচেয়ে কম ৩ হাজার ৪২৫ কোটি টাকা ঘাটতি রয়েছে আয়কর ও ভ্রমণ করে। এনবিআর সূত্রে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।
সূত্রমতে, ২০২২-২৩ অর্থবছরের জন্য এনবিআরের রাজস্ব আহরণের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৩ লাখ ৭০ হাজার কোটি টাকা, গত অর্থবছর যা ছিল ৩ লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকা। চলতি অর্থবছর আমদানি ও রফতানি পর্যায়ে ১ লাখ ১১ হাজার, স্থানীয় পর্যায়ে মূসক ১ লাখ ৩৬ হাজার ৯০০ এবং আয়কর ও ভ্রমণ করে ১ লাখ ২২ হাজার ১০০ কোটি টাকা রাজস্ব আহরণের লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে।
ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত প্রথম আট মাসে রাজস্ব আহরণের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ২ লাখ ১৯ হাজার ১৫ কোটি টাকা। এর মধ্যে মূসকে সবচেয়ে বেশি ৮২ হাজার ১৩৯ কোটি, আমদানি ও রফতানি পর্যায়ে রাজস্বে ৭৩ হাজার ১৩ কোটি এবং আয়কর ও ভ্রমণ করে ছিল ৬৩ হাজার ৮৬৩ কোটি টাকা। এ লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে মোট রাজস্ব আয় হয়েছে ১ লাখ ৯৬ হাজার ৩৭ কোটি টাকা। এর মধ্যে মূসকে সবচেয়ে বেশি ৭৬ হাজার ৪০১ কোটি টাকা রাজস্ব আয় হয়েছে। এছাড়া আয়কর ও ভ্রমণ কর থেকে ৬০ হাজার ৪৩৭ কোটি এবং আমদানি ও রফতানি খাত থেকে ৫৯ হাজার ১৯৮ কোটি টাকা রাজস্ব আয় হয়েছে।
চলতি অর্থবছরের রাজস্ব আহরণে লক্ষ্যমাত্রার প্রবৃদ্ধি ১২ দশমিক ১২ শতাংশ, গত অর্থবছরের একই সময়ে যা ছিল ১৬ দশমিক ৪০ শতাংশ। ২০২১-২২ অর্থবছরের একই সময়ে কাস্টমসে প্রবৃদ্ধি সবচেয়ে বেশি ছিল, ২২ দশমিক ৬৮ শতাংশ।
এ অর্থবছরের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের হার ৮৯ দশমিক ৫১ শতাংশ, যা গত অর্থবছরের একই সময় পর্যন্ত ছিল ৯০ শতাংশ।
এ বিষয়ে পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর আহসান এইচ মনসুর বলেন, ‘রাজস্ব আহরণ কমে যাওয়ার প্রধান কারণ ডলার সংকট ও আমদানীকৃত কিছু পণ্যে কর অব্যাহতি এবং মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমে যাওয়া। রাজস্ব আহরণে ঘাটতির এ প্রবণতা এপ্রিল পর্যন্ত চলতে পারে। এ রকম চলতে থাকলে আইএমএফের শর্ত পূরণে রাজস্ব বোর্ড ঝুঁকির মধ্যে থাকবে।’
এনবিআর কর্মকর্তাদের মতে, আমদানি-রফতানিতে ধীরগতি ও মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমে যাওয়ায় এবং রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণেও রাজস্ব আদায়ে কিছুটা ধীরগতি। সরকারের নিয়ন্ত্রণের ফলে আমদানিতে শুল্ক আয় কমেছে, গত বছরের চেয়ে রাজস্ব আদায়ের এ খাতেই সবচেয়ে কম প্রবৃদ্ধি দেখা যাচ্ছে। তাছাড়া আমদানিকে ব্যবহার করে যেসব পণ্য উৎপাদন হয়, সেখান থেকেও রাজস্ব আয়ে প্রভাব পড়ছে।