বাংলার গ্রামীণ ঐতিহ্যকে তুলে ধরতে রাজধানীর বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে চলভে বৈশাখী মেলা। পহেলা বৈশাখ থেকে শুরু হওয়ায় এই মেলায় দেখা মিলছে হারাতে বসা বায়োস্কোপ। আছে নাগরদোলা, চলছে পুতুল নাচ। এছাড়া নানা রঙের মাটির জিনিসপত্র, হাতপাখা, তির-ধনুক, শঙ্খ কাঁসার তৈজসপত্র, নকশিকাঁথা ও খাবারের দোকান স্থান পেয়েছে মেলায়।
করোনার কারণে গত দুই বছর বৈশাখী মেলা বন্ধ ছিল। এবারের মেলা চলবে ২৮ এপ্রিল পর্যন্ত। প্রতিদিন সকাল ৯টায় শুরু হয়ে এই মেলা চলে রাত ৮টা পর্যন্ত। যৌথভাবে মেলার আয়োজন করেছে বাংলা একাডেমি এবং বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশন (বিসিক)। সার্বিক ব্যবস্থাপনায় রয়েছে বিসিক উদ্যোক্তা ফোরাম ও ঐক্য ফাউন্ডেশন।
মেলার প্রধান গেট দিয়ে মেলায় প্রবেশ করে একটু এগোলেই বাঁ পাশেই চোখে পড়ে পুতুলনাচ। মানিকগঞ্জের বিজয়নগরের মানিকবাবু, বলরাম রাজবংশীর বিশ্বরূপা পুতুলনাচ পার্টি। পুতুলনাচের আয়োজকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, মেলা সকালে শুরু হলেও দর্শনার্থী না থাকায় বিকেল চারটায় প্রথম শো (প্রদর্শনী) শুরু করা হয়। মেলায় ঢুকতে ৩০ টাকা দিয়ে কিনতে হবে টিকিট। তবে প্রতিবন্ধীদের জন্য ফ্রি।
পুতুলনাচের মঞ্চ থেকে বের হয়ে রাস্তার বাঁ পাশের ফুটপাতে বাঁশির পসরা সাজিয়ে বসে থাকতে দেখা যায় একজনকে। তাঁর পাশে একজন চিত্রশিল্পীও আছেন। তিনি ১০ মিনিটেই এঁকে দেন যে কারোর ছবি।
মেলা ঘুরে দেখা যায়, চুড়ি, মালা, হাতে কাজ করা থ্রি–পিস, চামড়ার জুতা-ব্যাগ-মানিব্যাগ, হাতের কাজ করা থ্রি–পিসের পসরা সাজিয়ে বসেছেন দোকানিরা।
পোশাকের পাশাপাশি পুতুল, মাটি–শঙ্খ–কাঁসা-পিতলের তৈজসপত্র, হাতপাখা, কাগজের ফুল, মাটির টমটম, বেলুন বাঁশি, শতরঞ্জি, নকশিকাঁথা, তাঁতের কাপড়চোপড়, সুলার ফুল, নাগরদোলা, শুটার, ভূতের বাড়ি, সাম্পান নৌকা, চরকি, পুতুল ব্যাগসহ পাটের নানা জিনিস, মাশরুমের নানা খাবার, চটপটি-ফুচকা, বেতের শো পিসসহ নানা রকম জিনিস নজর কাড়ে নানা বয়সী দর্শনার্থীদের।
আয়োজকেরা জানান, মেলায় মোট ১০০টি স্টল রয়েছে। এর মধ্যে ২০টি স্টল ফ্রি। যেসব উদ্যোক্তা মেলায় অংশ নিয়েছেন, তাঁরা বিসিকের নিবন্ধন বা প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ও বিসিক উদ্যোক্তা ফোরামের সদস্য।
মেলায় বেচাকেনা প্রসঙ্গে কয়েকজন দোকানি জানান, বেচাকেনা ভালো না। তাঁদের অভিযোগ, বাংলা একাডেমিতে মেলা হলেও টিএসসি কিংবা শাহবাগ এলাকায় এ নিয়ে কোনো পোস্টার–ব্যানার নেই। প্রথম দুই দিন মেলায় মাইকের আয়োজনও ছিল না। তবে শনিবার মেলার মূল ফটকে মাইকের মাধ্যমে প্রচার চালাতে দেখা গেছে।
তবে অনেকের আবার বেচাবিক্রি ভালোই হচ্ছে। স্টল সাজিয়ে বসা ইরা বুটিকের কর্ণধার এলিনা রাহি ইরা বলেন, আমার এখানে হরেক রকম পণ্য। বিক্রিও বেশ ভালোই হচ্ছে।
মেলার প্রচার হচ্ছে না, এমন অভিযোগ ঠিক না বলে মনে করেন বিসিক উদ্যোক্তা ফোরামের ব্যবস্থাপনা পরিচালক রেজবিন হাফিজ। তিনি বলেন, প্রতিদিনই গণমাধ্যমে মেলার প্রচার চলছে।