৪ আগস্ট মুন্সীগঞ্জ জেলার কৃতি সন্তান অভিনয়শিল্পী রফিকউল্লাহ সেলিমের জন্মদিন। মুন্সীগঞ্জ জেলার গজারিয়া উপজেলার ষোলআনি গ্রামে তাঁর বাড়ি। তাঁর অভিনয় জীবন আশির দশকের মাঝামাঝি মঞ্চ থেকে শুরু হলেও তিনি নব্বইর দশকের শুরুতে জনপ্রিয় হয়ে ওঠেন টেলিভিশন মাধ্যমে। এরপর আর তাঁকে পেছন ফিরে তাকাতে হয়নি। কৌতুকধর্মী একটু নেতিবাচক সন্ত্রাসী চরিত্রে তিনি একজন অপ্রতিদ্বন্দ্বী কুশীলব হয়ে ওঠেন। যে ধরনের চরিত্রে তখন অগ্রজ ভার্সেটাইল অভিনয়শিল্পী হুমায়ুন ফরীদি বড় পর্দা কাঁপিয়ে বেড়াচ্ছিলেন। পৈতৃক ব্যবসা ও পারিবারিক নানা কারণে প্রবল জনপ্রিয়তার সময়েই অভিনয় জগতে রফিকউল্লাহ সেলিমের উপস্থিতি অনিয়মিত ছিলো। যে কারণে হয়তো ভক্তরা এই শক্তিমান অভিনয়শিল্পীর কাছ থেকে আশানুরূপ ভালো কাজ পাননি। তবে সবাই আশাবাদী, আগামীতে তাঁর নিয়মিত অভিনয় তাঁকে আরও সফলতা ও সম্মানের জায়গায় পৌঁছে দেবে। তাঁকে নিয়ে আমাদের অহঙ্কারের জায়গাটি আরও সুশক্ত হবে।
অভিনয়শিল্পী রফিকউল্লাহ সেলিম এর বাবা বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব মোহাম্মদ কলিমউল্লাহ ছিলেন আমাদের অঞ্চলের পথিকৃৎ সমাজসেবী। আমাদের গজারিয়া উপজেলা পরিষদের প্রথম নির্বাচিত চেয়ারম্যান। তিনিই আমাদের উপজেলায় প্রথম কলেজ প্রতিষ্ঠা করেন। তাঁর সমাজসেবাকালীন সময়ে আমাদের এলাকায় বেসরকারি উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত বেশিরভাগ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে তাঁর পৃষ্ঠপোষকতা ছিলো। ২০১৭ সালের ১৫ জুন আলহাজ্ব মোহাম্মদ কলিমউল্লাহ পৃথিবীর মায়া ছেড়ে পরপারে চলে যান। এরপর পিতার কল্যাণময় কর্মকাণ্ডের পতাকাটি হাতে তুলে নেন পুত্র রফিকউল্লাহ সেলিম।
মুন্সীগঞ্জ জেলার সন্তানদের মধ্যে অনেকে অভিনয় জগতে পা রেখেছেন। অনেকে গগণচুম্বি জনপ্রিয়তা পেয়েছেন। তাঁদের অনেকেই সিরিও কমেডি বিষয়ক অভিনেতা হিসেবে সুনাম অর্জন করেছেন। সরাসরি ভাঁড়ামো করে নয়, হাসতে হাসতে সমাজের অপূর্ণতার দিকে, অন্যায়ের দিকে আঙুল তুলে ধরেছেন তাঁরা। তাঁদের মধ্যে যাঁরা উল্লেখযোগ্য-ভানু বন্দ্যোপাধ্যায়, খান জয়নুল, টেলিসামাদ, জলি কাদের, আবদুল কাদের, মিঠু, জিল্লুর রহমান, আফজাল শরীফ, রফিকউল্লাহ সেলিম, আরফান আহমেদ। নিজস্ব ভিন্ন আঙ্গিকের অভিনয়রীতি রফিকউল্লাহ সেলিমকে একটি স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্যের অধিকারী করেছে। করেছে ঋদ্ধ ও জনপ্রিয়।
জন্মদিনে প্রিয় অভিনয়শিল্পী রফিকউল্লাহ সেলিমকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন তার ভক্তরা।