দেশে ডলার সংকটের মাত্রা আরো তীব্র হয়ে উঠেছে। দর বৃদ্ধির ক্ষেত্রে প্রতিদিনই নিত্যনতুন রেকর্ড গড়ছে ডলার। গতকাল খুচরা বাজারে (কার্ব মার্কেট) প্রতি ডলারের বিনিময় হার পৌঁছেছে ১২০ টাকায়। এ নিয়ে চলতি সপ্তাহেই ডলারপ্রতি বিনিময় মূল্য বেড়েছে অন্তত ৮ টাকা। তবে রেকর্ড পরিমাণ দাম দিয়েও বাজারে চাহিদা অনুযায়ী ডলার মিলছে না বলে অভিযোগ পাওয়া গিয়েছে।
খুচরা বাজারের মতোই পরিস্থিতি আরো অস্থিতিশীল হয়েছে আন্তঃব্যাংক মুদ্রাবাজারে। সোমবার দেশের প্রথম সারির ছয় ব্যাংকের ট্রেজারি প্রধানদের অপসারণের নির্দেশ দিয়েছিল বাংলাদেশ ব্যাংক। কঠোর এ ঘোষণার পরও দেশের আন্তঃব্যাংক মুদ্রাবাজারে ডলারের দাম কমেনি। উল্টো বেশি দাম দিয়েও রেমিট্যান্সের ডলার কিনতে না পেরে দেশের অনেক ব্যাংকে ডলার সংকট বেড়েছে।
খুচরা বাজারে ডলারের দাম অস্বাভাবিক হারে বেড়ে যাওয়ায় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ঘোষিত দরের সঙ্গে বড় ধরনের ব্যবধান তৈরি হয়েছে। গতকাল বাংলাদেশ ব্যাংকের ঘোষণা অনুযায়ী প্রতি ডলারের দাম ছিল ৯৪ টাকা ৮০ পয়সা। স্বাভাবিক সময়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ঘোষিত এ দরের সঙ্গে খুচরা বাজারে ডলারের মূল্য ১-২ টাকা বেশি থাকে। কিন্তু বর্তমানে এ ব্যবধান প্রায় ২৫ টাকায় গিয়ে ঠেকেছে। ফলে ডলারের হুন্ডির বাজার আরো বেশি চাঙ্গা হয়ে উঠেছে।
দেশের একাধিক ব্যাংকের শীর্ষ নির্বাহী জানান, প্রতিটি ব্যাংকের ওপরই বড় অংকের এলসি দায় পরিশোধের চাপ রয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ঘোষিত দামে দেশের কোথাও ডলার পাওয়া যাচ্ছে না। বাধ্য হয়ে বেশি দামে রেমিট্যান্স হাউজগুলোর কাছ থেকে ডলার কিনতে হচ্ছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক ছয় ব্যাংকের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়ায় অনেক ব্যাংকই বুধবার বেশি দামে রেমিট্যান্স কেনেনি। ফলে এদিন দেশে রেমিট্যান্সও সেভাবে আসেনি। বৈধপথে রেমিট্যান্স প্রবাহ কমে গেলে হুন্ডির বাজার চাঙ্গা হয়।
দেশের বৈদেশিক মুদ্রাবাজারে অস্থিরতা চলছে প্রায় এক বছর ধরে। চাহিদা তীব্র হওয়ায় ব্যাংক খাতের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে কার্ব মার্কেটেও দাম বাড়ছিল অস্বাভাবিক হারে। গত এক বছরের ব্যবধানে প্রতি ডলারের দাম ৮৫ থেকে ১০৫ টাকা পর্যন্ত উঠে গিয়েছিল। তবে দাম বৃদ্ধির যে রেকর্ড ছিল তা গত ২৬ জুলাই একদিনেই ভেঙে যায়। ২৫ জুলাই কার্ব মার্কেটে প্রতি ডলার ১০৪-১০৫ টাকা বিক্রি হলেও ২৬ জুলাই তা ১১২ টাকা পর্যন্ত উঠে যায়। একদিনেই ডলারের দাম প্রায় ৮ টাকা বেড়ে যাওয়ায় তত্পর হয়ে ওঠে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। দেশের বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সহায়তায় মানি এক্সচেঞ্জ প্রতিষ্ঠানগুলোতে অভিযান শুরু করা হয়।
কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে বলা হয়, ব্যাংক ও মানি এক্সচেঞ্জ প্রতিষ্ঠানগুলোর অনিয়ম চিহ্নিত করার জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের ১০টি পরিদর্শক দল সার্বক্ষণিক কাজ করছে। অনিয়মে জড়িত থাকায় ৫টি মানি এক্সচেঞ্জের লাইসেন্স বাতিল করা হয়েছে। ৪৫টি মানি এক্সচেঞ্জ প্রতিষ্ঠানকে কারণ দর্শানোর নোটিস দেয়া হয়। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অব্যাহত তত্পরতায় গত সপ্তাহে দেশের খুচরা বাজারে ডলারের দাম কিছুটা নিয়ন্ত্রিত ছিল। তবে গত সোমবার আবারো ডলারের খুচরা বাজার অস্থিতিশীল হয়ে ওঠে। এদিন রাজধানীর মতিঝিল, গুলশান, কারওয়ান বাজারের মানি এক্সচেঞ্জগুলোতে প্রতি ডলার ১১৬ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হয়। গতকাল ডলারের দাম আরো বেড়ে ১২০ টাকা পর্যন্ত ওঠে।