চিত্রনায়িকা মাহিয়া মাহির সঙ্গে তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ডা. মুরাদ হাসানের ফোনালাপ ফাঁস হওয়ার ঘটনায় চিত্রনায়ক ইমনকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। গতকাল সোমবার (৬ ডিসেম্বর) রাতে রাজধানীর মিন্টু রোডে অবস্থিত গোয়েন্দা কার্যালয়ে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় বলে জানা গেছে।
সূত্র জানায়, মন্ত্রীর সঙ্গে ফোনালাপের বিষয়টি নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাঁকে আনা হয়েছিল। মন্ত্রীর সঙ্গে কী আলাপ হয়েছিল সে বিষয়ে জানতে চাওয়া হয়েছিল।
সূত্র আরও জানায়, এনিয়ে চিত্রনায়িকা মাহিয়া মাহিকেও জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। মাহি এখন দেশের বাইরে রয়েছেন। তিনি দেশে আসলে তাঁকেও জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডাকা হবে। মন্ত্রীর সঙ্গে কী আলাপ হয়েছিল- সেবিষয়ে জানতে চাওয়া হবে।
ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের উপ-কমিশনার (ডিসি) মশিউর রহমান গণমাধ্যমকে বলেন, ‘ইমনকে আমরা ডেকেছিলাম। মন্ত্রীর ফোনালাপ ও বিভিন্ন বিষয় নিয়ে তাঁর সঙ্গে আমাদের কথা হয়েছে।’
তবে ডিবির যুগ্ম কমিশনার হারুন অর রশিদ আজ মঙ্গলবার গণমাধ্যমকে বলেন, অভিনেতা ইমন রাতে পুলিশ কর্মকর্তাদের সঙ্গে দেখা করতে এসেছিলেন। তিনি তাঁর ছবি ব্যাপারে কথা বলতে এসেছিলেন। চা খেয়ে চলে গেছেন।
সাম্প্রতিক ঘটনায় নিরাপত্তা নিয়ে ইমন শঙ্কার কথা জানিয়েছেন কি না—এ ব্যাপারে হারুন অর রশিদ প্রথম আলো বলেন, ‘সার্বিক বিষয়ে কথা হয়েছে।’
এদিকে ইমন বলেন, ‘হারুন ভাই আমার পূর্বপরিচিত। তাঁর সঙ্গে এর আগে নানা সময়ে আমার দেখা ও কথা হয়েছে। গতকাল যখন মন্ত্রীর সঙ্গে কল রেকর্ড ফাঁস হয়, সারা দিন এ নিয়ে আমাকে কথা বলতে হয়। আমি নিজের অবস্থান সবাইকে পরিষ্কার করলেও সহকর্মীরাই আমাকে ভুল বোঝেন। কেউ কেউ আবার আমাকে ইঙ্গিত করে ফেসবুকে পোস্টও দেন। এসব আমাকে খুবই বিব্রত করেছে, কষ্ট দিয়েছে। ফেসবুকে অনেকে আবার আমাকে নিয়ে নেতিবাচক নানা কথাবার্তা বলার চেষ্টা করেছে। বিপর্যস্ত আমি, তাই হারুন ভাইয়ের সঙ্গে কথা বলে রাতেই তাঁর অফিসে দেখা করতে যাই। আমার অবস্থান তাঁর কাছে পরিষ্কার করি।
এরপর এসব বিষয়ে আমার কী করণীয়, সে ব্যাপারে পরামর্শও চাই। তিনিও আমাকে সেই পরামর্শ দিয়েছেন। এরপর চা খেয়ে আমি চলে আসি।’
এর আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মাহি ও মুরাদ হাসানের একটি ফোনালাপ ফাঁস হয়। সেই ফোনে অশ্লীল-আপত্তিকর ভাষায় মাহির সঙ্গে কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী। এসময় তিনি মাহিকে তার সঙ্গে দেখা করতে বলেন।