তৌহিদ হৃদয়ের অনবদ্য ৬৫ রানে ভর করে ওয়ালটন সেন্ট্রাল জোনকে ৫ উইকেটে হারিয়ে স্বাধীনতা কাপ নামে পরিচিত বাংলাদেশ ক্রিকেট লিগের (বিসিএল) ওয়ানডে ফরম্যাটের ফাইনাল নিশ্চিত করেছে বিসিবি সাউথ জোন।
ফাইনালেও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে দল দুটি। কারণ, দু’দলই চার পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষস্থানে থেকে গ্রুপ পর্ব শেষ করেছে । আসরের বাকি দুই দল ইসলামী ব্যাংক ইস্ট জোন ও বিসিবি নর্থ জোন সংগ্রহ করেছে দুই পয়েন্ট। শনিবার একই মাঠে অনুষ্ঠিত হবে ফাইনাল ম্যাচ।
এর আগে অনুষ্ঠিত বিসিএলের চার দিন ফরম্যাটের শিরোপা জয় করেছে ওয়ালটন। ওয়ানডে ফরম্যাটের ফাইনালে জয় পেলে দ্বিমুকুট লাভের স্বাদ পাবে দলটি।
সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচে প্রথমে ব্যাটিং নিয়ে ৮ উইকেটে ২২০ রান সংগ্রহ করে সেন্ট্রাল জোন। জবাবে হৃদয়ের ব্যাটিংয়ের সুবাদে ৪৮ দশমিক ৪ ওভারে ৫ উইকেটে ২২৫ রান তুলে জয় নিশ্চিত করে সাউথ জোন।
৭৮ বল খেলে তিনটি চার ও ১টি ছক্কায় নিজের ৬৫ রানের ইনিংসটি সাজান হৃদয়। ওপেনার পিনাক ঘোষ সংগ্রহ করেন ৫৪ রান। এর আগে উদ্বোধনী জুটিতে এনামুল হক বিজয়ের সাথে ৬০ রানের জুটি গড়েন পিনাক।
হৃদয়-পিনাকের জুটির আগে বিজয় ও মাইশুকুরকে (৭) ফিরিয়ে দিয়ে খেলায় ফিরে সেন্ট্রাল জোন। তবে ৫৪ রানে পিনাককে থামিয়ে ফের সেন্ট্রাল জোনকে লড়াইয়ে ফিরিয়ে আনেন হাসান মুরাদ। এছাড়া ৪০ রানের ইনিংস খেলেন জাকির হাসান।
২৯ রানে ২ উইকেট নিয়ে সেন্ট্রাল জোনের সফল বোলার ছিলেন হাসান মুরাদ। এছাড়া দলের হয়ে মোসাদ্দেক হোসেন, মৃত্যুঞ্জয় চৌধুরি ও সৌম্য সরকার ১টি করে উইকেট দখল করেন।
এর আগে সাউথ জোনের পক্ষে ৬৩ রানে ৪ উইকেট নেন মুস্তাফিজুর। তিনি একাই ধ্বসিয়ে দেন সেন্ট্রাল জোনের ব্যাটিং লাইন-আপ। তবে ফিজের এক ওভারে ২১ রান তুলেছেন আবু হায়দার রনি।
পরে ঝড়ো ব্যাটিং দিয়ে ২৭ বলে ৬টি চার ও ৪টি ছক্কায় ৫৪ রান করেন রনি। তার ইনিংসের সুবাদে সেন্ট্রাল জোন ২শ রান স্পর্শ করতে সক্ষম হয়। দলের হয়ে আব্দুল মাজিদ ৩৬ ও মোসাদ্দেক হোসেন ৪৪ রানসংগ্রহ করেন। ২৪ সংগ্রহ করেন আল-আমিন। মুস্তাফিজের পাশাপাশি অফ-স্পিনার মাহেদি হাসান ২৬ রান দিয়ে ৩ তুলে নেন উইকেট।
এদিকে, সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামের একাডেমি গ্রাউন্ডে অনুষ্ঠিত আরেক ম্যাচে ইসলামি ব্যাংক ইস্ট জোন ৪ উইকেটে হারিয়েছে বিসিবি নর্থ জোনকে। এতে ফাইনালে খেলার আশা শেষ হয় নর্থ জোনের।
ম্যাচটি জিততে পারলে নর্থ জোনের সংগ্রহ হতো ৪ পয়েন্ট। এতে দুই ফাইনালিস্টের মধ্যে নেট রান রেটের হিসেব কষতে হতো। কিন্তু সে রকম কোন সুযোগই পেল না দলটি।
প্রথমে বোলিং করে নর্থ জোনকে ৪৯ দশমিক ৫ ওভারে ২১৬ রানে আটকে দেয় ইস্ট জোন। দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ৬৬ রান করেন মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ। মার্শাল আইয়ুব করেন ৫৪ রান।
জবাবে ৩৭ দশমিক ৫ ওভারে ৬ উইকেটে ২১৭ রান করে জয়ের লক্ষ্য পুরণ করে ইস্ট জোন। ৭১ রান করে দলের জয়ে গুরত্বপুর্ন অবদান রাখেন অধিনায়ক ইমরুল কায়েস।