পাইকগাছায় পোদা নদী খননে নির্বিচারে কাটা হচ্ছে দু’পাড়ের গাছ

পাইকগাছা (খুলনা) প্রতিনিধি

৩১ মে, ২০২২ ১০:০২ পূর্বাহ্ন

পাইকগাছায় পোদা নদী খননে নির্বিচারে কাটা হচ্ছে দু’পাড়ের গাছ

পাইকগাছায় বদ্ধ পোদা নদীর খনন কাজের নামে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে নদীর দু’পাড়ের ছোট-বড় বিভিন্ন প্রজাতির গাছ কর্তনের অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয়রা।

তথ্যানুসন্ধানে জানা যায়, সাসটেইনেবল কোস্টাল এ্যান্ড মেরিন ফিশারিজ প্রকল্পের আওতায় উপজেলার লতা ইউনিয়নের বদ্ধ পোদা নদীতে মিষ্টি পানি সংরক্ষণের জন্য ৭ কিঃ মিঃ পুনঃ খননে প্রায় ৪ কোটি টাকা বরাদ্দ হয়। পুনঃ খননে নদীর মুখে ৯৬ ফুট, তলদেশে ৬৭ ফুট চওড়া ও পার্শ্ববর্তী সমতল ভূমির তুলনায় নদীর তলদেশের গভীরতা ১০ ফুটের কথা উল্লেখ রয়েছে। কুষ্টিয়ার শহীদুল ইসলামের মালিকানাধীন ইউনুচ এন্ড ব্রাদার্স নামের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান টেন্ডারটি প্রাপ্ত হয়ে খনন কাজ শুরু করলেও ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে স্থানীয়রা তাদেরকে হুমকি ধামকি ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করে নদীর দু’ পাড়ের বিভিন্ন প্রজাতির গাছ কর্তনের অভিযোগ তুলেছেন।

সরেজমিনে স্থানীয় ভুক্তভোগী মোজাফফর, সুব্রত,অনিল, কৃষ্ণপদসহ শতাধিক জন মানুষ এ প্রতিনিধিকে অভিযোগ করে বলেন, নদী খননের কার্যাদেশ পাওয়া ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানটি তাদের নিজেদের স্বার্থ হাসিলে তাদেরকে নানা রকম হুমকি ধামকি ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করে জোর পূর্বক নদীর দুপাড়ের প্রকৃতিক অক্রিজেন ভান্ডার খ্যাত নিম, তেঁতুল, রেইন্ট্রি, খেজুর, গেওয়াসহ নানা প্রজাতির গাছ কর্তন করে সাবাড় করছেন। যাতে করে একদিকে পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ঠসহ প্রাকৃতিক অক্সিজেন ভান্ডার ধ্বংশ হচ্ছে অন্যদিকে তেমনি পক্ষীকূলের খাদ্যসহ আবাসস্থল নির্বিচারে ধ্বংশ করা হচ্ছে। সর্বশেষ স্থানীয়রা ঘটনার সুষ্ঠ তদন্ত পূর্বক প্রাকৃতিক অক্সিজেন ভান্ডার রক্ষা ও প্রাকৃতিক ভারসাম্য বজায় রাখতে সংশ্লিষ্ঠ কর্তৃপক্ষের নিকট জোর দাবি জানিয়েছেন।

পাইকগাছা উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা পবিত্র কুমার দাশ স্থানীয়দের উদ্বৃতি দিয়ে বলেন, তিনি শুনেছেন স্থানীয় লোকজন নিজ নিজ লাগানো গাছ নদীর খনন কাজের স্বার্থে স্ব স্ব উদ্যোগে কেটে নিচ্ছেন। বন বিভাগের পাইকগাছা উপজেলা কর্মকর্তা প্রেমানন্দ রায় জানান, নদী খনন কাজের সুবিধার্থে বা অন্য যে কোন কারণে নদী পাড়ের গাছ কর্তনের বিষটি তিনি অবগত নন। আর যেহেতু খনন কাজটি মৎস্য অধিদপ্তরের আওতায় হচ্ছে। তাই খোঁজ খবর নিয়ে তিনি পরে জানাবেন বলেও জানিয়েছেন। ইউনুচ এন্ড ব্রাদার্স নামের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের স্বত্তাধিকারী শহিদুল ইসলাম জানান, তারা নদীর খনন কাজ করছেন। কাজের সুবিধার্থে স্থানীয়দের যারা ওই সকল গাছ লাগিয়েছেন তারা নিজেরাই সেগুলো কেটে নিয়েছেন। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান বা তাদের কোন লোকজন কাউকে ভয়ভীতি প্রদর্শন তো দূরে থাক কোন গাছই কাটেননি বলেও দাবি করেন তিনি।

প্রসঙ্গত, সরকার সামুদ্রিক একান্ত অর্থনৈতিক অঞ্চলে মৎস্য জরিপ পরিচালনার মাধ্যমে চিংড়ি, তলদেশীয় এবং ভাসমান প্রজাতির মৎস্যের মজুদ নিরূপণ কর্মসূচি জোরদারকরণ, সরকারি, বেসরকারি প্রতিষ্ঠান এবং গবেষণা সংস্থার সামথর্য বৃদ্ধিপূর্বক বিজ্ঞানভিত্তিক টেকসই মৎস্য মজুদ সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনা উন্নয়ন, বাণিজ্যিক ও ক্ষুদ্রায়তন মৎস্যসম্পদ ব্যবস্থাপনা ও উন্নয়নে অধিকতর কার্যকর পরিবীক্ষণ, নিয়ন্ত্রণ ও নজরদারী পদ্ধতির বাস্তবায়ন, উপকূলীয় অঞ্চলের মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র, সার্ভিস সেন্টার, মৎস্যবাজার উন্নয়নকরন, আহরিত ও উৎপাদিত মৎস্যের ভ্যালু চেইন উৎকর্ষ ও গুণগতমান উন্নয়ন ও অপচয় হ্রাস করা, উপকূলীয় জেলা সমূহে ক্লাস্টার ব্যবস্থাপনা পদ্ধতির স¤প্রসারণ ঘটিয়ে বাগদা চিংড়ির উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি ও চিংড়ি রপ্তানী বৃদ্ধি করা, দরিদ্র মৎস্যজীবী জনগোষ্ঠি কর্তৃক চালিত তাদের নেতৃত্বে উপকূলীয় ও সামুদ্রিক মৎস্য সম্পদ-এর টেকসই সহ-ব্যবস্থাপনা  প্রতিষ্ঠা এবং বিকল্প জীবিকায়নে সহায়তা করা, উপকূলীয় ও সামুদ্রিক মৎস্য সম্পদের টেকসই আহরণ ব্যবস্থাপনায় ‘সামুদ্রিক মৎস্য সম্পদ ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনা’ প্রণয়ন, উপকূলীয় এবং সামুদ্রিক মৎস্য সম্পদ।
    
সর্বশেষ সাসটেইনেবল কোস্টাল এন্ড মেরিন ফিশারিজ প্রকল্পের আওতায় নদী পাড়ের অধিবাসীসহ বিস্তির্ণ জনপদের সাধারণ মানুষের মধ্যে একদিকে আনন্দ অন্যদিকে খনন কাজের সুবিধায় নির্বিচারে প্রাকৃতিক অক্সিজেন ভান্ডার ধ্বংশের বিষটিকে সামনে রেখে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
সংক্রান্ত বিভিন্ন ক্রসকাটিং ইস্যুর ওপর সমীক্ষা পরিচালনার জন্য সারাদেশে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে।

 




সাতদিনের সেরা খবর

সারাদেশ - এর আরো খবর

যে কারণে ৭ দিন বন্ধ সোনাহাট স্থলবন্দর!

যে কারণে ৭ দিন বন্ধ সোনাহাট স্থলবন্দর!

৩১ মে, ২০২২ ১০:০২ পূর্বাহ্ন