প্রতিনিয়তই কৌশল পরিবর্তন করে কথিত কবিরাজ’রা অপচিকিৎসার মাধ্যমে লোক ঠকানোর ব্যবসায় মেথে উঠেছে। ঝাড় ফুঁকে দেবার পাশাপাশি যৌন সমস্যা সমাধানের জন্য যৌন- উত্তেজনার সিরাপ তুলে দেওয়া হচ্ছে রোগীদের হাতে। শুধু তাই নয় জটিল ও কঠিন রোগ সাড়ানোর জন্য অভিনয়ের মাধ্যমে বেহুলার লক্ষিণদার, মানসিপূজা ইত্যাদি করার জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়। এনিয়ে অত্র এলাকায় বিভিন্ন ধরণের সমালোচনা ঝড় উঠেছে। কেউ কেউ বলছে যে, বেহুলার লক্ষিণদার গান ও মানসিপূজা দিবে হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ। কিন্তু ইদানিং দেখা যাচ্ছে বিভিন্ন ধরণের রোগ সাড়ানোর জন্য মুসলমানদের পূজা করাতে বাদ্ধ করাচ্ছে। এমনই এক ঘটনা ঘটেছে পত্নীতলার আমাইড় ইউনিয়নের অষ্টমাত্রাই গ্রামে।
এবিষয়ে অষ্টমাত্রাই গ্রামের তৈয়মুদ্দীন এর স্ত্রী বলেন, আমার স্বামীর হঠাৎ করে ব্রেনের সমস্যা দেখা দিলে আমি ডাক্তার পরামর্শ গ্রহণ করে বেশ কিছুদিন চিকিৎসা করি। এত সমস্যা সমাধান না হলে বিভিন্ন মাধ্যম দিয়ে মিঠাপুরের সাধক ওরফে সামছুল কবিরাজের কাছে যাই। সামছুল কবিরাজের আসনে বসলে তিনি পানির গ্রাস দেখে বলে আপনার স্বামীর সাথে মানসা দেবী আছে। বেহুলার গান দিলেই আপনার স্বামী ভালো হয়ে যাবে। স্বামীকে ভালো করার জন্য আমি আমার সম্পদ নষ্ট করে সামছুল কবিরাজের কথা মতো ৫০-৬০ হাজার টাকা খরচা করে আমি বেহুলার গান দেই। গান শেষ হবার পরেও আমার স্বামী ভালো না হওয়াই আবার সামছুল কবিরাজের কাছে গেলে তিনি বলেন , আপনি আপনার স্বামীকে ভালো কোন ডাক্তার দেখান।
খোঁজ খবর নিয়ে দেখা যায়, কথিত মিঠাপুরের সাধক ওরফে সামছুল কবিরাজ এর বাসা নওগাঁর বদলগাছি উপজেলার মিঠাপুর ইউনিয়নের হাজিপুর গ্রামের মো: খলিলুর রহমানের ৩য় ছেলে।
এবিষয়ে পত্নীতলা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. খালিদ সাইফুল্লাহ বলেন, চিকিৎসার নামে জনগণের সাথে প্রতারণা করছে এমন কোন সুনিদিষ্ট অভিযোগ পেলে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এবিষয়ে কবিরাজ সামছুল আলম এর সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করলে তিনি কথা না বলে তার পিএস ভাগনি জামাই মো: লুৎফর রহমান বলেন, আপনাকে কে এই তথ্য দিয়েছে তাকে সঙ্গে নিয়ে আমাদের এখানে আসেন। দেখি আপনারা কতবড় সাংবাদিক হয়েছেন।