চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার মহারাজপুর ইউনিয়নের কবিরাজপাড়ার স্বপন আলীর ছেলে ৫ বছর বয়সী আতিক হাসান জন্মগত ভাবেই হার্টের সমস্যায় ভুগছে। রিকশা চালক স্বপন আলী ২০১৮ সালে একবার স্থানীয়দের সহায়তায় ঢাকায় ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশনে চিকিৎসা করিয়েছিলেন। সেই সময়ই চিকিৎসক পরামর্শ দিয়েছিলো অপারেশন করার, তবে টাকা না থাকায় ছেলেকে ফিরিয়ে আনেন বাড়িতে। এরপর দিনে দিনে শিশু আতিকের অবস্থার অবনতি হয়েছে। বেশ কিছুদিনে থেকে অসুস্থ হয়ে পড়ায় ভর্তি করিয়েছেন চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর হাসপাতালে। সেখানে শিশু ওয়ার্ডের বিছানায় কাটছে তার সারাক্ষণ। এদিকে চিকিৎসার জন্য এনজিওতে জমানো টাকা এখন না পেতে মাথায় হাত পরিবারটির।
হাসপাতালে গিয়ে কথা হয় আতিকের মা সারমিন খাতুনের সাথে, তিনি জানালেন ‘‘ডাক্তারে বলে দিয়েছে এখানে আর কোন চিকিৎসা নাই, ঢাকা লিয়্যা যাতে হবে, কিন্ত কি করব এতে টাকা কোনঠে পাব, তাই এখানেই আছি। কথা বলতে বলতে চোখ গড়িয়ে পড়া পানি মুছতে মুছতে জানালেন, ছেলের হার্টের অপারেশন করব এর জন্য একটু একটু কর্যা কয়েক বছর থ্যাকা এনজিওতে টাকা জমা দিয়্যাছি, কিন্তু এখন ওই এনজিও পালিয়া গেছে, যাদেরকে টাকা দিয়্যাছিনু তারা এখন আর টাকাটা দিচ্ছে না, টাকাটা প্যালে ছ্যালার অপারেশন টা করতে পারতুন।
আতিকের বাবা স্বপন আলী জানান, রিক্সাচালিয়ে গত তিন বছরে ১ লাখ টাকা জমা করেছিলেন, আর সমাজ সেবা থেকে ৫০ হাজার টাকা পেয়েছিলেন। এই দেড় লাখ টাকা আরপিডিএস নামে একটা এনজিওতে রেখেছিলেন। সেই এনজিওর মালিক তাকে বলেছিলো, যথন ছেলের অপারেশন করবেন, তখনই আমাদের বলবেন, আমরা আপনার টাকা দিয়ে দিব। কিন্ত এখন ওই এনজিও মালিকের কোন খোঁজ নাই, অফিসে গেলে আমাদের কোন পাত্তাই দিচ্ছে না।
‘ছ্যালার হার্টের অপারেশন করাতে ঢাকা লিয়্যা যাতে হবে, ডাক্তারকে আজ বললাম স্যার কত টাকা খরচ হতে পারে, ডাক্তার বলেছে আড়াই লাখ টাকা লাগতে পারে। ওই এনজিওর টাকাতে পেলে তো ম্যালাখানিক আগাই তো, কিভাবে যে কি করব, এতো টাকা কিভাবে জোগাড় করব, বুঝতে পারছি না।’
এ বিষয়ে চাঁপাইনবাবঞ্জ সদর হাসপাতালের শিশু বিশেষজ্ঞ মাহফুজ রায়হান বলেন, জন্মগত হার্টের ত্রুটি এটা, ওর চিকিৎসা আরো আগে থেকেই করানো দরকার, কিন্ত আর্থিক অসংগতির কারনে করতে পারেনি। ওর শিশু হৃদরোগ চিকিৎসক দেখানো দরকার বা ঢাকায় যাওয়া দ্রুতই প্রয়োজন।
এ বিষয়ে পপুলার রুরাল ডেভেলপমেন্ট সোসাইটি (আরপিডিএস) এনজিওর মালিক আমিনুল ইসলামের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। মুঠোফোনে তার স্ত্রী ডালিয়া বেগম জানান, তার স্বামী মাস খানেক থেকে বাড়িতে নেই। তার স্বামি ও মমিনুল ইসলাম নামে আরেক ব্যাক্তি মিলে ওই এনজিও করেছিলেন, মমিনুল ইসলাম পালিয়ে গেছে, তার স্বামীরও খোঁজ নেই।